জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল ও ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল

দিল্লি ও জামায়াতের ‘ডিসেম্বর তত্ত্ব’ একই ষড়যন্ত্রের অংশ, জুলাই সনদ নিয়ে চলছে মায়াকান্না : হেলাল

গেজেট প্রতিবেদন

দিল্লিতে পলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্য এবং দেশে লংমার্চ করে ‘ডিসেম্বরে সরকার ফেলে দেওয়ার’ হুমকির মধ্যে এক গভীর গোপন সংযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল। তিনি বলেছেন, ১৭ বছর রাজপথে তাজা রক্ত দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে গণতন্ত্রের ভিত্তি রচিত হয়েছে, সেই গণতন্ত্রের ক্ষততে এখন কিছু পরাজিত ‘মাছি’ ভনভন করছে। দিল্লি বসে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার হুংকার দিচ্ছে আর দেশে অন্য একটি দল লংমার্চ করে ডিসেম্বরের হুমকি দিচ্ছে উভয়ের এই দ্বৈত ষড়যন্ত্রের জবাব রাজপথেই দেওয়া হবে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে খুলনা জাতিসংঘ পার্কের সামনে থেকে শুরু হয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হওয়া জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের যৌথ বিক্ষোভ মিছিল-পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চক্রান্তের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনা জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল যৌথভাবে এ সমাবেশের আয়োজন করে।

হেলাল বলেন, পলাতক হাসিনা দিল্লিতে বসে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের জাল বুনছেন। আর দেশে আরেকটি দল লংমার্চের নামে দাবি তুলে বলছে ডিসেম্বরে সরকারকে চলে যেতে হবে। আর দিল্লিতে তাদের ‘ফুফু শাশুড়ি’ বলছেন ডিসেম্বরে তিনি ফিরে আসবেন। এই আসা আর যাওয়ার সংযোগ এক সুতোয় গাঁথা। তারেক রহমানের নীতি স্পষ্ট‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। সবার আগে বাংলাদেশ, মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে হবে। জনগণ যাদের বিতাড়িত করেছে, দিল্লি বা মস্কো বসে তারা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না।

জুলাই জাতীয় সনদ ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াতকে একহাত নিয়ে হেলাল বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে এখন মায়াকান্না চলছে। একমাত্র বিএনপিই শুরু থেকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সবচেয়ে আন্তরিক। জামায়াত জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে সবার শেষে। সনদে স্পষ্ট বলা ছিল বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিতে হবে, মা-বোনদের ৫ শতাংশ দলীয় মনোনয়ন দিতে হবে। জামায়াত কি একজন নারীকেও মনোনয়ন দিয়েছে? তারা কেবল মুখে লিপসার্ভিস দিচ্ছে। আসলে ধর্মের কার্ড জনগণ প্রত্যাখ্যান করায় এখন জুলাই সনদকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানোর পাঁয়তারা চলছে।

খুলনা জেলা যুবদলের সভাপতি নাজিমুজ্জামান জনির সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী, যুগ্ম আহবায়ক এস এম শামীম কবির, সদস্য জুলফিকার আলি জুলু, আশরাফুল আলম নান্নু। এসময় উপস্থিত ছিলেন সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা তুহিন, সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান মিস্ত্রি, ছাত্রদলের আহবায়ক মোঃ আবু জাফর, সদস্য সচিব ইসমাইল হোসেন, জেলা যুবদলের সাবেক নেতৃবৃন্দ সহ জেলা যুবদল সেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলের উপজেলা ও পৌরর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন